ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় মঞ্চে চিরন্তন নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 24

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের প্রতিটি পরতে পরতে মানবমুক্তি, সাম্য, প্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সৌন্দর্যের যে দীপ্ত উত্তরাধিকার নিহিত রয়েছে, তা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে সেই চিরন্তন নজরুলকে উপস্থাপনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র প্রয়াস ‘বর্ষায় নজরুল’।

বুধবার ( ১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এই আয়োজন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সাহিত্য-সংগীত সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসংখ্য গান আছে বর্ষা নিয়ে, অনেক কবিতা আছে।

তিনি বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন এবং একটি কবিতায় ছয়টি ঋতুর যে বর্ণনা সেটা খুব বিস্মিত করে। ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম, চির-মনোরম চির মধুর’। এই গান এবং কবিতা, একই সাথে এটি গান ও কবিতা এরমধ্যে ষড়ঋতুর যে বর্ণনা মনে হবে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র তিনি একে দিয়েছেন। তাঁর শ্রাবণ নিয়ে যে গান রয়েছে এসব গান আমাদের এমনভাবে সম্মোহিত করে যে, গান শোনার পর অনেকক্ষণ আমাদের স্তব্ধ থাকতে হয়। নজরুলের কবিতায় যে বৃষ্টির বর্ণনা সেটাও আমাদের হৃদয়কে বারবার স্পর্শ করে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন-অর-রশীদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পরবর্তীতে যুক্ত হোন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘রিমি ঝিমি রিমি ঝিমি মন দেয়া বরষে’ গানের সাথে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ এবং সমবেত সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য্য’ ও ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীবৃন্দ। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা ও ফেরদৌস আরা। নন্দন কলাকেন্দ্র-এর শিল্পীবৃন্দ এস আর ওয়সেক এর পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ইয়াসমীন মুস্তারী, খায়রুল আলম শাকিল ও প্রিয়াংকা গোপ।

নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর শিল্পীবৃন্দ সমবেত নৃত্য এবং শিল্পী মুন্নি কাদের একক সংগীত পরিবেশন করেন। বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পীদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির বর্ষা ঋতুকে নিয়ে রচিত গান পরিবেশিত হয়। পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ফেরদৌস আরা, ইয়াসমিন মুস্তারি, মুন্নি কাদের, ইয়াকুব আলী খান, ফাতেমা তুজ জোহরা, শহীদ কবির পলাশ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, প্রিয়াংকা গোপ, তানভীর আলম সজীব, রাজিয়া সুলতানা মিশি, মেহফুজ আল ফাহাদ, ছন্দা চক্রবর্তী ও মাহমুদুল হাসান। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক সংগঠন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন কবিরুল ইসলাম রতন। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, মাহবুবা আখন্দ, শহীদ কবির পলাশ ও মৌসুমী ইকবাল। সবশেষে সমবেত নৃত্য ‘গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু’ পরিবেশন করে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন আনিসুল ইসলাম হীরো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বর্ষায় মঞ্চে চিরন্তন নজরুল

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের প্রতিটি পরতে পরতে মানবমুক্তি, সাম্য, প্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সৌন্দর্যের যে দীপ্ত উত্তরাধিকার নিহিত রয়েছে, তা আজও বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে সেই চিরন্তন নজরুলকে উপস্থাপনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র প্রয়াস ‘বর্ষায় নজরুল’।

বুধবার ( ১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এই আয়োজন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সাহিত্য-সংগীত সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসংখ্য গান আছে বর্ষা নিয়ে, অনেক কবিতা আছে।

তিনি বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন এবং একটি কবিতায় ছয়টি ঋতুর যে বর্ণনা সেটা খুব বিস্মিত করে। ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম, চির-মনোরম চির মধুর’। এই গান এবং কবিতা, একই সাথে এটি গান ও কবিতা এরমধ্যে ষড়ঋতুর যে বর্ণনা মনে হবে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র তিনি একে দিয়েছেন। তাঁর শ্রাবণ নিয়ে যে গান রয়েছে এসব গান আমাদের এমনভাবে সম্মোহিত করে যে, গান শোনার পর অনেকক্ষণ আমাদের স্তব্ধ থাকতে হয়। নজরুলের কবিতায় যে বৃষ্টির বর্ণনা সেটাও আমাদের হৃদয়কে বারবার স্পর্শ করে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাঃ হারুন-অর-রশীদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পরবর্তীতে যুক্ত হোন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘রিমি ঝিমি রিমি ঝিমি মন দেয়া বরষে’ গানের সাথে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ এবং সমবেত সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য্য’ ও ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীবৃন্দ। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা ও ফেরদৌস আরা। নন্দন কলাকেন্দ্র-এর শিল্পীবৃন্দ এস আর ওয়সেক এর পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নজরুলসংগীত শিল্পী ইয়াসমীন মুস্তারী, খায়রুল আলম শাকিল ও প্রিয়াংকা গোপ।

নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরীর পরিচালনায় বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর শিল্পীবৃন্দ সমবেত নৃত্য এবং শিল্পী মুন্নি কাদের একক সংগীত পরিবেশন করেন। বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পীদের অংশগ্রহণে জাতীয় কবির বর্ষা ঋতুকে নিয়ে রচিত গান পরিবেশিত হয়। পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ফেরদৌস আরা, ইয়াসমিন মুস্তারি, মুন্নি কাদের, ইয়াকুব আলী খান, ফাতেমা তুজ জোহরা, শহীদ কবির পলাশ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, প্রিয়াংকা গোপ, তানভীর আলম সজীব, রাজিয়া সুলতানা মিশি, মেহফুজ আল ফাহাদ, ছন্দা চক্রবর্তী ও মাহমুদুল হাসান। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক সংগঠন, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন কবিরুল ইসলাম রতন। এরপর একক সংগীত পরিবেশন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, মাহবুবা আখন্দ, শহীদ কবির পলাশ ও মৌসুমী ইকবাল। সবশেষে সমবেত নৃত্য ‘গরজে গম্ভীর গগনে কম্বু’ পরিবেশন করে সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন আনিসুল ইসলাম হীরো।