পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 28
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু কার্যক্রম এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বক্তারা। সেসঙ্গে কিশোরী ও যুব নারীদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার ( ১৫ জুলাই ) বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইয়ুথ কোয়ালিশন (বিওয়াইসি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে “গার্লস- এন্ড ইয়ুথ-লেড ক্লাইমেট একশন” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ অঙ্গীকার করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ । বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।
এছাড়া বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাডভাইজার মারজান নূর এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বক্তব্য দেন। সেমিনারে সরকারি মন্ত্রণালয়, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কবিতা বোস বলেন, “কিশোরী ও তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের নেতৃত্ব বিকাশে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু বিষয়ক পরিকল্পনা ও স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো সময়ের দাবি।”
মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষকেন্দ্রিক জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে কিশোরী ও তরুণদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করে জাতীয় জলবায়ু কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “জলবায়ু অভিযোজন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি মানুষের ক্ষমতায়ন, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়। আজকের তরুণরা, বিশেষ করে কিশোরী ও যুব নারীরা, আগামী দিনের জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই জলবায়ু বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধিতে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
ড. মো. লুৎফর রহমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম কার্যকর জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুব সংগঠনের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতার পাশাপাশি যুব-নেতৃত্বাধীন ‘সবুজ’ স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু শিক্ষা, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুব নেতৃত্বাধীন গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং যুব সংগঠনের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করে কিশোরী ও যুব নারীদের নেতৃত্বে জলবায়ু কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং যুব প্রতিনিধিরা কিশোরী ও যুব নারীদের জলবায়ু নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করা, নীতিনির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং একটি সবুজ, সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


































