উগ্রবাদে ছাড় নয়: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 14
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যেন আর কোনোভাবে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
৭ জুন শুরু হওয়া এই অধিবেশন শেষ হয়েছে বুধবার। ২৬ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে ৩০ জুন। এ সময়ে মোট ১০টি বিল পাস হয়। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার জন্য জমা পড়া ২৭৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, তবে তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অন্য কোনো অজুহাতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেটি বাস্তবায়নে সবাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ রয়েছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি দেশের উন্নয়নের বড় বাধা। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এসব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ইউনিভার্সেল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতের বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
সংসদকে জনগণের সংসদ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতের ভিন্নতা থাকা। তবে রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে।





































