৫৫ শিল্পীর তুলিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 20
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দেশবরেণ্য, প্রথিতযশা ও তরুণ শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’ আর্টক্যাম্প। আজ ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, সকাল ১১টায় জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, “বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে ৩ দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যে সকল শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ জাহেদ উর রহমান, মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা), পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, “আজ ১৫ জুলাই। ১৫ জুলাই থেকেই গণঅভ্যুত্থানের মূল মুভমেন্ট শুরু হয়েছিল।
১৪ তারিখ দিবাগত রাত ১২ টার পরই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে ছাত্রীরা বেরিয়ে এসেছিলেন। ১৫ তারিখ সেই আন্দোলন আরো তীব্র হতে থাকে, সেদিন অনেক ছাত্রীদেরও আহত করা হয়েছিল। সেই আন্দোলন থেকেই তৎকালীন সরকারের পতন হয়। তৎকালীন সরকার বাংলাদেশে যা যা করেছে সেটা ঠিকঠাকভাবে মানুষের মধ্যে জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্প্রীরিট আছে- নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই, জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, “শিল্পকলা একাডমি এই ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে, শিল্পের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চায় সেই বার্তাও যেন মানুষ বুঝতে পারে। মানুষ আসুক দেখুক, বিশেষ করে নবীন যারা আঁকতে চায় তারা যেন বড় বড় শিল্পীদের আঁকা দেখে যেতে পারে।”
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “জুলাইয়ের যে চেতনাকে ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আজ ৫৫ জন শিল্পীর অংশগ্রহণে এই আর্টক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসকল ছবি আঁকা হবে সেগুলো নিয়ে জাতীয় পরিসরে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলা।
১৫ থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ৩ দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন দেশবরেণ্য, প্রথিতযশা ও তরুণ শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন। সমকালীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় এই আয়োজন একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।


































