ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 21
পরিবেশ রক্ষায় শুধু শক্তিশালী আইন করলেই হবে না, বরং ই-বর্জ্য এর মতো নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, ই-বর্জ্য দ্রুত বাড়লেও এটি এখনো নীতি নির্ধারণ ও জনসচেতনতায় যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।
শনিবার (১১ জুলাই ) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ভয়েস, নাগরিক উদ্যোগ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টসহ ২৯টি নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, তরুণ প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। বন সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশে ই-বর্জ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকটাই অবহেলিত পরিবেশগত সমস্যা। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, সম্পদের পুনঃব্যবহার এবং সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সেমিনারে ভয়েস-এর প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশে ই-বর্জ্য সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা পরিবেশগত সমস্যাগুলোর একটি হলেও এটি এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি ভয়েস-এর ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়।
কিন্তু বিদ্যমান আইনে টেক-ব্যাক ব্যবস্থা এবং উৎপাদনকারীর দায়িত্ব কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তিনি ই-বর্জ্যের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, দেশব্যাপী সংগ্রহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর মানদণ্ড পরিমাপ বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, ই-বর্জ্য এক ধরনের নীরব দূষণ, যার ক্ষতি অনেক সময় চোখে না পড়লেও তা মানুষ ও পরিবেশের জন্য
বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনর্ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ নীতি, পরিবেশ শিক্ষা এবং সার্কুলার ইকোনমি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
































