ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপরিসরে ছড়িয়ে দিতে হবে নজরুলের গান ও দর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 27

আন্তর্জাতিক পরিসরে নজরুলকে তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তক,গবেষণা-প্রকাশনার পাশাপাশি নানামাধ্যমে জাতীয় কবির গান, সৃষ্টিকর্ম ও দর্শন তুলে ধরার পরামর্শ দেন বিশিষ্ট শিল্পী ও গবেষকবৃন্দ।

বাস, ট্রেন, বিমান থেকে শুরু করে যে কোন জনসমাগম স্থলে জাতীয় কবি নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁর দর্শন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিকাররা।

রবিবার ( ১২ জুলাই) সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ সম্মিলন ও মতবিনিময়ে পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিকাররা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ আয়োজনে বাংলা সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে নানান প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিশিষ্টজনরা।

মূলত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘নজরুল বর্ষ’ নানা আঙ্গিকে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গৃহীত পরিকল্পনাসমূহকে আরো ফলপ্রসূ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রভাব সৃষ্টিকারী ও জনমুখী করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের নিয়ে এই সম্মিলন ও মতবিনিময় এর আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময়ে তারা শুধু রাজধানীকেন্দ্রীক নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, কর্মশালা, নজরুল গবেষণা বাড়ানো এবং বিদেশে নজরুল কালচারাল সেন্টার করার বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিসমূহে নজরুল চর্চা বৃদ্ধি করার জন্য মতামত ব্যক্ত করেন।

শুরু নাচ-গান বা কবিতায় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যন্ত্রসংগীত, সভা-সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুদ্ধ বাণী ও সুরে নুজরুল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে তা যেন সবসময় অব্যাহত থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

নজরুলের সৃষ্টিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও লালন করতে হবে। গণমাধ্যম ও ডিজিটাল ফ্লাটফর্মেও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম সম্প্রসারিত করতে হবে। জাতীয় কবিকে নিয়ে পাবলিক প্লেসে স্মৃতি স্তম্ভ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম এবং নজরুল বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে একটি থিমসং তৈরির ব্যাপারে মতামত প্রদান করেন। বিখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পীদের সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানা তারা।

সম্মিলনে আগত বিশিষ্টজনদের মতামত শোনেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। পরে বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশকে মাদক মুক্ত এবং মৌলবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূল করে উন্নত সমাজ গঠন করার একমাত্র হাতিয়ার হলো সংস্কৃতি বিষয়ক জ্ঞান এবং শিক্ষা। আমরা উন্নত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লালন, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী জীবনের কথা বলে। এসব শিক্ষায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া প্রাইমারী স্কুল থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান কবিতা লেখনী নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন তিনি।”

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক জনাব হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ নানান আঙ্গিকে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বছরব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই পরিকল্পনাগুলো কীভাবে আরো সুন্দর পরিসরে ও সকলের অংশগ্রহণে কীভাবে ফলপ্রসূ এবং জনমুখী করা যায় সেই লক্ষ্যে আজকের এই বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের নিয়ে সম্মিলন ও মতবিনিময় এর আয়োজন করা হয়েছে। সকলের অভিমত এবং পরামর্শ অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।”

সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন মাধ্যমের চারশত কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও নজরুল গবেষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে অভিমত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সীমা ইসলাম, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ, ফেরদৌস আরা, অধ্যাপক প্রিয়াংকা গোপ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

গণপরিসরে ছড়িয়ে দিতে হবে নজরুলের গান ও দর্শন

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক পরিসরে নজরুলকে তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তক,গবেষণা-প্রকাশনার পাশাপাশি নানামাধ্যমে জাতীয় কবির গান, সৃষ্টিকর্ম ও দর্শন তুলে ধরার পরামর্শ দেন বিশিষ্ট শিল্পী ও গবেষকবৃন্দ।

বাস, ট্রেন, বিমান থেকে শুরু করে যে কোন জনসমাগম স্থলে জাতীয় কবি নজরুলের গান ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁর দর্শন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিকাররা।

রবিবার ( ১২ জুলাই) সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ সম্মিলন ও মতবিনিময়ে পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক শিল্পী, কবি ও আবৃত্তিকাররা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এ আয়োজনে বাংলা সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে নানান প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বিশিষ্টজনরা।

মূলত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘নজরুল বর্ষ’ নানা আঙ্গিকে উদযাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গৃহীত পরিকল্পনাসমূহকে আরো ফলপ্রসূ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রভাব সৃষ্টিকারী ও জনমুখী করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের নিয়ে এই সম্মিলন ও মতবিনিময় এর আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময়ে তারা শুধু রাজধানীকেন্দ্রীক নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ, কর্মশালা, নজরুল গবেষণা বাড়ানো এবং বিদেশে নজরুল কালচারাল সেন্টার করার বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিসমূহে নজরুল চর্চা বৃদ্ধি করার জন্য মতামত ব্যক্ত করেন।

শুরু নাচ-গান বা কবিতায় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যন্ত্রসংগীত, সভা-সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুদ্ধ বাণী ও সুরে নুজরুল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে তা যেন সবসময় অব্যাহত থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

নজরুলের সৃষ্টিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও লালন করতে হবে। গণমাধ্যম ও ডিজিটাল ফ্লাটফর্মেও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম সম্প্রসারিত করতে হবে। জাতীয় কবিকে নিয়ে পাবলিক প্লেসে স্মৃতি স্তম্ভ, নজরুল কালচারাল মিউজিয়াম এবং নজরুল বর্ষ উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে একটি থিমসং তৈরির ব্যাপারে মতামত প্রদান করেন। বিখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পীদের সকল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানা তারা।

সম্মিলনে আগত বিশিষ্টজনদের মতামত শোনেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। পরে বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশকে মাদক মুক্ত এবং মৌলবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূল করে উন্নত সমাজ গঠন করার একমাত্র হাতিয়ার হলো সংস্কৃতি বিষয়ক জ্ঞান এবং শিক্ষা। আমরা উন্নত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লালন, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী জীবনের কথা বলে। এসব শিক্ষায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া প্রাইমারী স্কুল থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান কবিতা লেখনী নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন তিনি।”

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহ্বায়ক জনাব হেলাল খান। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব কানিজ মওলা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ নানান আঙ্গিকে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বছরব্যাপী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই পরিকল্পনাগুলো কীভাবে আরো সুন্দর পরিসরে ও সকলের অংশগ্রহণে কীভাবে ফলপ্রসূ এবং জনমুখী করা যায় সেই লক্ষ্যে আজকের এই বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের শিল্পীদের নিয়ে সম্মিলন ও মতবিনিময় এর আয়োজন করা হয়েছে। সকলের অভিমত এবং পরামর্শ অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।”

সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন মাধ্যমের চারশত কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী ও নজরুল গবেষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে অভিমত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল, ইয়াকুব আলী খান, গাজী আব্দুল হাকিম, সীমা ইসলাম, লুবনা মারিয়াম, খায়রুল আনাম শাকিল, সাদিয়া আফরীন মল্লিক, এফ এম হায়াত উল্লাহ, সাজু আহমেদ, ফেরদৌস আরা, অধ্যাপক প্রিয়াংকা গোপ।