বন্যায় মৃত্যু ৫১, নতুন করে ১৫ জেলায় প্লাবনের শঙ্কা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 18
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাত জেলায় বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন করে আরও ১৫ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় আহত হয়েছেন ৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ মানুষ। পানিবন্দি রয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবার।
দুর্গতদের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যার শিকার হয়েছেন এবং পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পানি কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন এলাকাতেও বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।
বন্যাকবলিত জেলাগুলোর জন্য সরকার এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার জন্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।




































