ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে কাল আদালতের রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 22

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে এমন এক রায়ের অপেক্ষায় দেশ। সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনী- যে সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল- সেই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন এখন একটাই- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কি ফিরছে, নাকি বহাল থাকছে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো?

এই মামলায় তিনটি পৃথক আপিলের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তির আপিল, নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের আপিল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আপিল। পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি লিভ টু আপিলের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেয়।

রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শিশির মনির, ইমরান এ সিদ্দিক ও অন্যরা।

২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, গণভোটের বিধান প্রত্যাহার, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষিত নারী আসন ৫০-এ উন্নীত এবং সংবিধানে একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিট দায়ের হয়। পরে হাইকোর্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত বিধানসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।

সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এখন আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে।

আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না; ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

এখন পুরো দেশের নজর আপিল বিভাগের দিকে। বৃহস্পতিবারের রায়েই মিলবে- বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে, নাকি বহাল থাকছে বিদ্যমান কাঠামো।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে কাল আদালতের রায়

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে এমন এক রায়ের অপেক্ষায় দেশ। সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনী- যে সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল- সেই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন এখন একটাই- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কি ফিরছে, নাকি বহাল থাকছে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো?

এই মামলায় তিনটি পৃথক আপিলের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তির আপিল, নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের আপিল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আপিল। পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি লিভ টু আপিলের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেয়।

রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, মোহাম্মদ শিশির মনির, ইমরান এ সিদ্দিক ও অন্যরা।

২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, গণভোটের বিধান প্রত্যাহার, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, সংরক্ষিত নারী আসন ৫০-এ উন্নীত এবং সংবিধানে একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এসব পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিট দায়ের হয়। পরে হাইকোর্ট রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত বিধানসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।

সেই রায়ের বিরুদ্ধেই এখন আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে।

আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না; ভবিষ্যতের নির্বাচন ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

এখন পুরো দেশের নজর আপিল বিভাগের দিকে। বৃহস্পতিবারের রায়েই মিলবে- বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে, নাকি বহাল থাকছে বিদ্যমান কাঠামো।