শিশুর যৌন শোষণ রোধে ঢাকায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 22
ঢাকা জেলায় শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু। চলবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
বুধবার ( ৮ জুলাই) ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম) বাংলাদেশ ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় একথা জানিয়েছে।
প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনজিও শাখা) এবং (প্রবাসী কল্যাণ শাখা) মো: মাহবুব-উল-আলম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো: মাহবুব উল্লাহ মজুমদার; সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইসরাফিল জাহান। এছাড়াও ছিলেন আইজেএম বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নির্মল সরকার এবং ব্র্যান্ডিং এন্ড কমিউনিকেশনস এর সিনিয়র অফিসার রতন মালো।
মো: মাহবুব-উল-আলম বলেন “আইজেএম বাংলাদেশ এর কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী।”
আইজেএম বাংলাদেশের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি ।
নির্মল সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং ঢাকা জেলায় পরিকল্পিত কর্মসূচি তুলে ধরেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন ১১ টি জেলায় কার্যক্রম শুরু করে আইজেএম বাংলাদেশ।
প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলায়- ঢাকা, গাজীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইল জেলায় কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঢাকা জেলার অন্তর্গত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নং ৯, ১০, ১৭, ১৯, ২৬, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩৪), এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নং ৬, ৮, ১৩, ১৫, ১৯, ৩৪, ৩৭, ৪৮ ও ৫০) কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইজেএম বাংলাদেশ।
নির্মল সরকার জানান, আইএজএম বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডের মৌলিক জায়গা হলো শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে দেশের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা; অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারিগরী সহায়তা প্রদান; ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা; ও শিশু সুরক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি করা।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে আইজেএম বাংলাদেশ সর্বপ্রথম সাড়া দানকারী এবং নীতি-নির্ধারকদের সহায়তা করছে, এটি প্রতিরোধে প্রণীত আইন ও নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনে ৬০ লাখ শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক ঢাকা বিভাগের ৫টি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ২০টি স্থানে আইজেএম বাংলাদেশ শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পথনাটক প্রদর্শন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় ঢাকা জেলার ৪টি স্থানে পথনাটক প্রদর্শন করে জনগণকে শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কারিগরী সহায়তা, ভুক্তভোগী শিশুদের আইনি সেবা, উদ্ধার পরবর্তী সেবা প্রদান করছে। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটর, বিচারকগণ, সমাজসেবাকর্মী ও উদ্ধার-পরবর্তী সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গ, শিশু কল্যাণ ও মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
ভুক্তভোগী শিশুদের উন্নতমানের সেবা প্রদানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নীতিমালা ও গণমাধ্যমে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মশালা, গোলটেবিল বৈঠক ও সার্ভাইভারদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে ।





































