শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
ঢাকার তিন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 31
এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া ও প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরার পাশাপাশি নীলক্ষেত-সায়েন্সল্যাব এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঘোষিত ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড ও আজিমপুর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অনেক মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে দেখা যায়।
এর আগে কর্মসূচিকে ঘিরে নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো জমায়েত দেখা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা এলাকা ছেড়ে যান।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর সাড়ে ১টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা সড়ক অবরোধ করলে ওই এলাকাতেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
উত্তরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ছিল। এসব অভিযোগে তারা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হয়।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেও বুধবার দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।





































