ঢাকা ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 161

সৌদির সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সমন্বয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোটের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ মহড়া ও সমন্বিত অভিযানে একসঙ্গে কাজ করবে।

কেন এই জোট?

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হুতিদের জাহাজ থেকে ফি আদায়ের সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করতেই সৌদি আরব এ জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।

জোটে কারা আছে?

সৌদি আরবের পাশাপাশি বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস এই জোটের সদস্য। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাকালীন বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১ দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সৌদি আরবের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো নিজ নিজ সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হবে।

জোটের অধীনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা করবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সম্পদ দেবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশের আগের অবস্থান

এর আগে লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে যেকোনো ধরনের হামলা বা অবরোধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ চলাচলের প্রতি সমর্থনও জানায় ঢাকা।

জোট কীভাবে কাজ করবে?

সৌদি আরবের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট। এর লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সামুদ্রিক কনভেনশন অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জোটের সদরদপ্তর, যৌথ কমান্ড, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং সচিবালয় সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।

হুতিদের প্রতিক্রিয়া

জোট ঘোষণার আগেই হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তার অভিযোগ, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সৌদি যদি সংঘাত বাড়ায়, তাহলে তারও জবাব দেওয়া হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথ। এই পথের বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় অংশ এবং বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সৌদির সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সমন্বয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোটের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ মহড়া ও সমন্বিত অভিযানে একসঙ্গে কাজ করবে।

কেন এই জোট?

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হুতিদের জাহাজ থেকে ফি আদায়ের সম্ভাব্য পরিকল্পনার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করতেই সৌদি আরব এ জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়।

জোটে কারা আছে?

সৌদি আরবের পাশাপাশি বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস এই জোটের সদস্য। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাকালীন বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১ দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ভূমিকা কী?

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সৌদি আরবের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো নিজ নিজ সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যুক্ত হবে।

জোটের অধীনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সামুদ্রিক অভিযানে সহযোগিতা করবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সম্পদ দেবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশের আগের অবস্থান

এর আগে লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক নৌপথে যেকোনো ধরনের হামলা বা অবরোধ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ চলাচলের প্রতি সমর্থনও জানায় ঢাকা।

জোট কীভাবে কাজ করবে?

সৌদি আরবের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট। এর লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সামুদ্রিক কনভেনশন অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জোটের সদরদপ্তর, যৌথ কমান্ড, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং সচিবালয় সৌদি আরবে স্থাপন করা হবে।

হুতিদের প্রতিক্রিয়া

জোট ঘোষণার আগেই হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তার অভিযোগ, সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সৌদি যদি সংঘাত বাড়ায়, তাহলে তারও জবাব দেওয়া হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক নৌপথ। এই পথের বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় অংশ এবং বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।