ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এএফপিকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার

‘দেশের মানুষ ডাকছে, ডিসেম্বরে ফিরতেই হবে’

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / 157

এএফপিকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি হওয়া কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকলেও দেশের মানুষের আহ্বানেই ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি কারাগারেও যেতে হতে পারে। এসব ঝুঁকি সম্পর্কে আমি অবগত। তারপরও দেশে ফিরতে চাই, কারণ দেশের মানুষ আমাকে ডাকছে।”

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে শেখ হাসিনার। বিক্ষোভের মুখে তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে হেলিকপ্টারে ভারতে চলে যান। পরে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সর্বোচ্চ ১,৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি ওই রায়কে “আইনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিশোধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে তিনি ভারতের একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন এবং সেখানে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রয়েছেন। তার দাবি, প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তও সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করেছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগও নাকচ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনেক অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। তার ভাষ্য, এটি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত সহিংস অভিযান।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষমতা আমার লক্ষ্য নয়, মানুষের সেবা করাই আমার উদ্দেশ্য।”

আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানালেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। সংকটকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কখনো একজন ব্যক্তির একার নয়; পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এএফপিকে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার

‘দেশের মানুষ ডাকছে, ডিসেম্বরে ফিরতেই হবে’

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি হওয়া কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকলেও দেশের মানুষের আহ্বানেই ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি কারাগারেও যেতে হতে পারে। এসব ঝুঁকি সম্পর্কে আমি অবগত। তারপরও দেশে ফিরতে চাই, কারণ দেশের মানুষ আমাকে ডাকছে।”

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে শেখ হাসিনার। বিক্ষোভের মুখে তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে হেলিকপ্টারে ভারতে চলে যান। পরে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সর্বোচ্চ ১,৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় ঢাকার একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে তিনি ওই রায়কে “আইনের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিশোধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, বর্তমানে তিনি ভারতের একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন এবং সেখানে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রয়েছেন। তার দাবি, প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তও সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করেছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগও নাকচ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনেক অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। তার ভাষ্য, এটি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত সহিংস অভিযান।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষমতা আমার লক্ষ্য নয়, মানুষের সেবা করাই আমার উদ্দেশ্য।”

আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানালেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। সংকটকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কখনো একজন ব্যক্তির একার নয়; পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।