ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তার অভিযোগ, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা ছিল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজ আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বসেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।’

তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিতেন। অথচ তার অভিযোগ অনুযায়ী, গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি আড়াল করে এমন আচরণ করতেন, যেন তিনিও তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্পিকার বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। কিন্তু স্বজনদের সামনে তিনি এমনভাবে অভিনয় করতেন, যেন তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য তিনিও উদ্বিগ্ন। তখন জনগণ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এখন অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশদাতাও ছিলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ আরও বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়না ঘরে’ বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তার নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল সঞ্চালনা করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তার অভিযোগ, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা ছিল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজ আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বসেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।’

তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিতেন। অথচ তার অভিযোগ অনুযায়ী, গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তিনি আড়াল করে এমন আচরণ করতেন, যেন তিনিও তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্পিকার বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। কিন্তু স্বজনদের সামনে তিনি এমনভাবে অভিনয় করতেন, যেন তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য তিনিও উদ্বিগ্ন। তখন জনগণ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এখন অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা গুমের নির্দেশদাতাও ছিলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ আরও বলেন, একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হাতকড়া পরিয়ে ‘আয়না ঘরে’ বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তার নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলেও সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভায় সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল সঞ্চালনা করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।