হুথি ইস্যুতে ট্রাম্পকে চাপ সৌদি যুবরাজের
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে।
তবে মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অভিযানে যুক্ত করতে রাজি হননি ট্রাম্প। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। সংবেদনশীল আলোচনার বিষয় হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছে।
একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। তবে সেন্টকমের এক মুখপাত্র তার অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন এবং সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধ থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছে। কারণ, হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।
ওই ব্যক্তি বলেন, ইরান এসব উপগোষ্ঠীর কাছ থেকে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে, কারণ মানুষ মনে করছে তারা হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ছেড়ে দিয়েছে। হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে? তারা কি সৌদি আরবে হামলা করবে? এ কারণেই ইরান হামলা করলে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে তারা এই জোট গড়ে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, আর সৌদিরা যদি যুদ্ধে নামে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি তাদের অনুসরণ করবে? তারা সেটিই আশা করছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা এখনও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে অ্যাক্সিওসই প্রথম সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য রিয়াদের চাপের খবর প্রকাশ করে।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখল করেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ইয়েমেন সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে না থাকা সবশেষ দুটি দ্বীপও তারা দখল করেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর হুথিদের প্রভাব ও দর-কষাকষির ক্ষমতা আরও বেড়েছে।
ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা কয়েকটি ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইনের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-কে বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ওই হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাটি ইরাকের ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় মাইসান প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ইরাকি সরকার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তারা এই পর্যায়ে পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইরাকি সরকারের সঙ্গে কাজ করে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।
তবে রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার রয়েছে সৌদি আরবের।


































