ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ আসামির যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাতে নাসিরের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির কাছাকাছি জীবন মণ্ডলের বাগানের এলাকায় যায় ওই ছাত্রী।

সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা অন্য আসামিরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে মধুমতি নদীর তীরে একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন আসামি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতের দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায় আসামিরা।

পরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে ওই ছাত্রী তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরদিন ২৯ জানুয়ারি তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৩ আসামির যাবজ্জীবন

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) এবং একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাতে নাসিরের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির কাছাকাছি জীবন মণ্ডলের বাগানের এলাকায় যায় ওই ছাত্রী।

সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা অন্য আসামিরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে মধুমতি নদীর তীরে একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন আসামি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতের দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায় আসামিরা।

পরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে ওই ছাত্রী তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরদিন ২৯ জানুয়ারি তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।