ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে পিতা হত্যায় পুত্রের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 133

কিশোরগঞ্জে পিতা হত্যায় পুত্রের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় তার ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও পুত্রবধূ ময়না খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধ হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এর কয়েকদিন পর ৩০ জুলাই রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন আবু বাক্কার। ওই রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে মরদেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন সকালে সেলিম বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তার বাবাকে হত্যার কথা বলতে থাকেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করেন।

পরে স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম এবং বিছানায় রক্ত দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সেলিম, জাবেদ, আছিয়া খাতুন ও ময়না খাতুনসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কিশোরগঞ্জে পিতা হত্যায় পুত্রের যাবজ্জীবন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জে আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় তার ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও পুত্রবধূ ময়না খাতুনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় সেলিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পযশোদল ভুরিরচর গ্রামের আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের পারিবারিক বিরোধ হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এর কয়েকদিন পর ৩০ জুলাই রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন আবু বাক্কার। ওই রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে মরদেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন সকালে সেলিম বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে তার বাবাকে হত্যার কথা বলতে থাকেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করেন।

পরে স্বজনরা ঘরে গিয়ে কম্বল সরিয়ে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মাথার ডান পাশে গুরুতর জখম এবং বিছানায় রক্ত দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সেলিম, জাবেদ, আছিয়া খাতুন ও ময়না খাতুনসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।