আশুগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:০১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 78
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক নাবালিকা কিশোরীকে আটকে রেখে পাশবিক ও সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ভুক্তভোগী কিশোরীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ঘটনার শিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন (বুধবার) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার একটি স্থানীয় এলাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে দোকানে যাওয়ার পথে ওই কিশোরীর পথরোধ করে জাকারিয়া নামে স্থানীয় এক বখাটে যুবক। একপর্যায়ে সে কিশোরীকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে কাছের একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও কয়েকজন যুবকের সহযোগিতায় ওই অবুঝ কিশোরীর ওপর তীব্র যৌন নিপীড়ন চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী নিজেই অভিযোগ করেছে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে একটি রুমে জোরপূর্বক আটকে রেখে একের পর এক পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন চালায়। বখাটেদের এমন অমানুষিক নির্যাতনে একপর্যায়ে সে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বেশ কিছু সময় পর কিশোরীর জ্ঞান ফিরে এলে এই পৈশাচিক ঘটনাটি এলাকার অন্য কাউকে না বলার জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে বের করে দেয় অভিযুক্তরা। পরে কিশোরী কোনোমতে লড়খড় পায়ে বাড়িতে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তার নিজের মায়ের কাছে পুরো ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম লজ্জাজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং লোকলজ্জা ও আইনি জটিলতার বিষয়টি নিয়ে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটতে শুরু করলে বাধ্য হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনগত মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার মেয়েকে জাকারিয়া নামের ওই বখাটে যুবক একটি সাদা রঙের ভবনে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে আমি জানতে পেরেছি। ওই ছেলেকে আমি আগে থেকেই এই এলাকায় মাঝেমধ্যে চলাফেরা করতে দেখেছি এবং তার নাম ও পরিচয়ও আমার জানা ছিল। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই পাশবিক নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমরা পুলিশের একটি বিশেষ টিম নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী কিশোরী এবং তার অভিভাবকের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তাৎক্ষণিক সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় এসে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা দায়ের করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।




































