ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 130

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী সংগঠনগুলোর সদস্যরা। তাদের মতে, আইন কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬: প্রত্যাশা ও অর্জন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

সভায় সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান।

বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আইন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।

নেওয়াজ হালিমা আরলি এমপি বলেন, জনস্বাস্থ্যকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় সরকার নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ফরিদা ইয়াসমিন এমপি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC)-এ স্বাক্ষর করেছে। বিধিমালা প্রণয়নের সময় এ চুক্তির বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হেলেন জেরিন খান এমপি বলেন, ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য এবং খুচরা শলাকা বিক্রির বিষয়গুলোতে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বিধিমালায় এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তিনি।

সেলিনা সুলতানা এমপি বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে শর্তসাপেক্ষে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো যাতে এর অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য বিধিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম ও তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে দ্রুত ও যথাযথ বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী সংগঠনগুলোর সদস্যরা। তাদের মতে, আইন কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬: প্রত্যাশা ও অর্জন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

সভায় সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬)’ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান।

বক্তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১০ এপ্রিল সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আইন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।

নেওয়াজ হালিমা আরলি এমপি বলেন, জনস্বাস্থ্যকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় সরকার নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ফরিদা ইয়াসমিন এমপি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC)-এ স্বাক্ষর করেছে। বিধিমালা প্রণয়নের সময় এ চুক্তির বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হেলেন জেরিন খান এমপি বলেন, ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য এবং খুচরা শলাকা বিক্রির বিষয়গুলোতে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বিধিমালায় এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তিনি।

সেলিনা সুলতানা এমপি বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে শর্তসাপেক্ষে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো যাতে এর অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য বিধিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম ও তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে দ্রুত ও যথাযথ বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।