ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ার হিন্দুদের শ্মশানে গরুর মাংসের পিকনিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 258

কুষ্টিয়ার হিন্দুদের শ্মশানে গরুর মাংসের পিকনিক

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের একটি মহাশ্মশানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শ্মশানের চিতা ও মৃত ব্যক্তির সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় জোরপূর্বক মিমাংসা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় দেড়দিন ধরে ‘অনিক হোসেন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে শ্মশান এলাকায় বসে মাংস রান্না ও খেতে দেখা যায় বলে তারা জানান। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে কয়েকজনকে শ্মশানের চিতার ওপর এবং একটি সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের হরিনারায়ণপুর বাজার মহাশ্মশানে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থাকা কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি ইউনিয়নের আব্দালপুর ও শান্তিডাঙ্গা এলাকায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্মশান ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, মৃত স্বজনদের শেষকৃত্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি পবিত্র স্থান। ফলে সেখানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক এবং চিতা বা সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেন, কোনো ধর্মের পবিত্র স্থানেই এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। তবে তারা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চান না। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো কোনো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই মহাশ্মশানে সমাধি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শ্মশান এলাকায় মাংসের হাড়গোড় ও রান্নার আলামত পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কয়েকজন স্থানীয় জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তাদের দাবি।

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় রাতেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর মীমাংসার সময় ইবি থানার ওসি এস.এম. মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এ তথ্য অস্বীকার করে ওসি বলেন, “আমরা শ্মশান কমিটির নেতাদের থানায় আসতে বলেছি। তারা আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি সুবাস কর্মকার বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এটা খুবই দুঃখজনক। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব।” প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতা তাপস কুমার সাহা দেখভাল করছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হরিনারায়ণপুরের বাসিন্দা তাপস কুমার সাহা বলেন, “একটা ঘটনা ঘটেছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেটা সমাধানের রাস্তা এলাকার জনগণ খুঁজে নিয়েছে। আমাদের শ্মশান এলাকার জনগণ পাহারা দেবে।”

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না; এ বিষয়ে তিনি বলেন, শ্মশান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে বলতে পারবেন। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক এবং আইনগতভাবে তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য বিপুল সাহাকে মারধর করে জোরপূর্বক মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত বক্কর নামের একজন বিপুল সাহাকে মারধর করেন।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৭ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকা অবস্থায় শ্মশান বা মৃতদেহের অবশেষ রাখার স্থানে অনধিকার প্রবেশ, মৃতদেহের প্রতি অবমাননাকর আচরণ কিংবা শেষকৃত্যে বিঘ্ন ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা তদন্তে পাওয়া প্রকৃত ঘটনা, উদ্দেশ্য ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চান না। তাদের প্রত্যাশা, পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সব ধর্মের পবিত্র স্থান ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুষ্টিয়ার হিন্দুদের শ্মশানে গরুর মাংসের পিকনিক

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুরের একটি মহাশ্মশানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক করার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শ্মশানের চিতা ও মৃত ব্যক্তির সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় জোরপূর্বক মিমাংসা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় দেড়দিন ধরে ‘অনিক হোসেন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে শ্মশান এলাকায় বসে মাংস রান্না ও খেতে দেখা যায় বলে তারা জানান। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে কয়েকজনকে শ্মশানের চিতার ওপর এবং একটি সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের হরিনারায়ণপুর বাজার মহাশ্মশানে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে থাকা কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি ইউনিয়নের আব্দালপুর ও শান্তিডাঙ্গা এলাকায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্মশান ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, মৃত স্বজনদের শেষকৃত্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি পবিত্র স্থান। ফলে সেখানে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক এবং চিতা বা সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেন, কোনো ধর্মের পবিত্র স্থানেই এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। তবে তারা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চান না। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো কোনো সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই মহাশ্মশানে সমাধি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শ্মশান এলাকায় মাংসের হাড়গোড় ও রান্নার আলামত পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কয়েকজন স্থানীয় জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তাদের দাবি।

এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় রাতেই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর মীমাংসার সময় ইবি থানার ওসি এস.এম. মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এ তথ্য অস্বীকার করে ওসি বলেন, “আমরা শ্মশান কমিটির নেতাদের থানায় আসতে বলেছি। তারা আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি সুবাস কর্মকার বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এটা খুবই দুঃখজনক। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব।” প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতা তাপস কুমার সাহা দেখভাল করছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হরিনারায়ণপুরের বাসিন্দা তাপস কুমার সাহা বলেন, “একটা ঘটনা ঘটেছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেটা সমাধানের রাস্তা এলাকার জনগণ খুঁজে নিয়েছে। আমাদের শ্মশান এলাকার জনগণ পাহারা দেবে।”

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না; এ বিষয়ে তিনি বলেন, শ্মশান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে বলতে পারবেন। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক এবং আইনগতভাবে তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য বিপুল সাহাকে মারধর করে জোরপূর্বক মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত বক্কর নামের একজন বিপুল সাহাকে মারধর করেন।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৭ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকা অবস্থায় শ্মশান বা মৃতদেহের অবশেষ রাখার স্থানে অনধিকার প্রবেশ, মৃতদেহের প্রতি অবমাননাকর আচরণ কিংবা শেষকৃত্যে বিঘ্ন ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা তদন্তে পাওয়া প্রকৃত ঘটনা, উদ্দেশ্য ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা চান না। তাদের প্রত্যাশা, পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সব ধর্মের পবিত্র স্থান ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।