ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ময়মনসিংহে ডা. জাহেদ উর রহমান

জ্বালানি সংকট কাটতে লাগবে আরও দুই বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 39

ময়মনসিংহে ডা. জাহেদ উর রহমান

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ঘাটতি ও নানা সমস্যার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি খাতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ বর্তমানে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া এ সংকটের জন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। বন্ধ থাকা দুটি প্ল্যান্ট পুনরায় চালু হলেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। এটি স্বল্পমেয়াদি সংকট নয়; দীর্ঘ সময় ধরে এর পেছনে ঘাটতি জমা হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টে দুর্ঘটনার পর দ্রুত একটি প্ল্যান্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাকআপ হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ চলছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা যাচাই এবং এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যমেয়াদে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে বছরে দেশে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন স্থলভাগে সম্ভাব্য গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান জানান, নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে এবং পুরোনো রিগগুলোও সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা ও বিকল্প জ্বালানি নিয়েও কাজ চলছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে যেতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে।’ তবে এই সময়ের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সে জন্য সরকার দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে অস্থিতিশীল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এবং বাব-এল-মান্দেব ঘিরে অতীতের সংকট জ্বালানি পরিবহনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপদেষ্টার মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও সমস্যার ফল। অতীতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সংকটের প্রভাব অনেক সময় পরবর্তী সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়। বর্তমান সরকারও দীর্ঘদিনের জমে থাকা জ্বালানি ঘাটতির সেই প্রভাব সামাল দিচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ময়মনসিংহে ডা. জাহেদ উর রহমান

জ্বালানি সংকট কাটতে লাগবে আরও দুই বছর

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ঘাটতি ও নানা সমস্যার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি খাতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের মানুষ বর্তমানে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া এ সংকটের জন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। বন্ধ থাকা দুটি প্ল্যান্ট পুনরায় চালু হলেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। এটি স্বল্পমেয়াদি সংকট নয়; দীর্ঘ সময় ধরে এর পেছনে ঘাটতি জমা হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টে দুর্ঘটনার পর দ্রুত একটি প্ল্যান্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাকআপ হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ চলছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা যাচাই এবং এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যমেয়াদে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে বছরে দেশে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন স্থলভাগে সম্ভাব্য গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান জানান, নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে এবং পুরোনো রিগগুলোও সক্রিয় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা ও বিকল্প জ্বালানি নিয়েও কাজ চলছে।

জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে যেতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে।’ তবে এই সময়ের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সে জন্য সরকার দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে অস্থিতিশীল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এবং বাব-এল-মান্দেব ঘিরে অতীতের সংকট জ্বালানি পরিবহনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপদেষ্টার মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও সমস্যার ফল। অতীতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সংকটের প্রভাব অনেক সময় পরবর্তী সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়। বর্তমান সরকারও দীর্ঘদিনের জমে থাকা জ্বালানি ঘাটতির সেই প্রভাব সামাল দিচ্ছে।