ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 119

সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারা সম্পর্কে আপন দুই ভাই। পুরোনো বিরোধের জের ধরেই বুধবার দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিলের পক্ষের সবুর খান ও আব্দুল লতিফসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগেও তাদের বিরোধের জেরে আষাড়িয়ারচর এলাকায় সংঘর্ষ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, এর আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তার অনুসারীদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বুধবার প্রায় দুই মাস পর দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় তার ও নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আব্দুর রউফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল জলিল। তার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার এক অনুসারীকে একা পেয়ে হামলা করে। পরে তাকে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষ এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারা সম্পর্কে আপন দুই ভাই। পুরোনো বিরোধের জের ধরেই বুধবার দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিলের পক্ষের সবুর খান ও আব্দুল লতিফসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগেও তাদের বিরোধের জেরে আষাড়িয়ারচর এলাকায় সংঘর্ষ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, এর আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন তার অনুসারীদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। বুধবার প্রায় দুই মাস পর দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় তার ও নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আব্দুর রউফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল জলিল। তার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার এক অনুসারীকে একা পেয়ে হামলা করে। পরে তাকে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন ও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষ এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।