ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবিএসের সব কার্যালয় শতভাগ তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

বিবিএসের সব কার্যালয় শতভাগ তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অধীন দেশের সব কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার মুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানান বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।

উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)-এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিবিএসের সব অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করা হবে এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য শরীরের কোনো উপকার করে না। বরং তামাক ব্যবহার অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। তাই সবাইকে তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উবিনীগের প্রতিনিধিরা তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি এবং দেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, টোব্যাকো অ্যাটলাস-২০২৫-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ৬১ হাজারের বেশি শিশু ভুগছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ বা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে সরকার তামাক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের তুলনায় তামাকের কারণে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিবিএসের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু অফিস ভবনের ভেতর নয়, পুরো অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অফিস প্রাঙ্গণে ধূমপানের সুযোগ থাকলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে থাকবেন। কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবেন।

বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ও এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষও তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন। এর মাধ্যমে সারা দেশে বিবিএসের কার্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে উঠবে।

সভায় বিবিএসের সব অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণা এবং তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ২০২৬ সালের সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে বিবিএসের উদ্যোগটি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

সভায় বিবিএসের বিভিন্ন উইংয়ের পরিচালক, উপপরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উবিনীগ ও তাবিনাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিবিএসের সব কার্যালয় শতভাগ তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অধীন দেশের সব কার্যালয়কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার মুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের কথা জানান বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।

উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)-এর কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিবিএসের সব অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করা হবে এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য শরীরের কোনো উপকার করে না। বরং তামাক ব্যবহার অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। তাই সবাইকে তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উবিনীগের প্রতিনিধিরা তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি এবং দেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, টোব্যাকো অ্যাটলাস-২০২৫-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজনিত কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ৬১ হাজারের বেশি শিশু ভুগছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ বা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে সরকার তামাক খাত থেকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের তুলনায় তামাকের কারণে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিবিএসের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু অফিস ভবনের ভেতর নয়, পুরো অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অফিস প্রাঙ্গণে ধূমপানের সুযোগ থাকলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে থাকবেন। কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবেন।

বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ও এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকমুক্ত ঘোষণা করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষও তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন। এর মাধ্যমে সারা দেশে বিবিএসের কার্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে উঠবে।

সভায় বিবিএসের সব অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য মুক্ত ঘোষণা এবং তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ২০২৬ সালের সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে বিবিএসের উদ্যোগটি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

সভায় বিবিএসের বিভিন্ন উইংয়ের পরিচালক, উপপরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উবিনীগ ও তাবিনাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।