ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন বাড়তে পারে ১৩০%

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 10

প্রতীকী

দীর্ঘ এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশ করে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ এবং ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকার নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করছে। চলতি সপ্তাহেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে। তবে এটি এক ধাপে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আইবিএএস++ (iBAS++) সিস্টেমের কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন পে স্কেলে মূল বেতন বাড়তে পারে ১৩০%

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ এক যুগ পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশ করে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ এবং ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকার নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করছে। চলতি সপ্তাহেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললেই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে। তবে এটি এক ধাপে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আইবিএএস++ (iBAS++) সিস্টেমের কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।