ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় গ্রাম পুলিশ নিখোঁজ, চাঁদা ও দখলের অভিযোগে উত্তেজনা

শফিকুল ইসলাম, রায়পুরা প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 360

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মাহমুদনগর হিন্দুপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র বিশ্বাস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকেই তিনি আর খোঁজে নেই। স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাসেল মৃধা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে চাপের মধ্যে রেখে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। শুধু সম্পত্তি নয়, ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহমুদনগর হিন্দুপাড়ায় কয়েকটি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পুরনো বিরোধ রয়েছে। একাধিকবার সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

 

নিখোঁজ সুমনের স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস জানান, কয়েক মাস ধরে তার স্বামীকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য। “গত বৃহস্পতিবার রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই আমার স্বামী নিখোঁজ,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও পরিবারের সদস্যদের জোর করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে দলিল সম্পাদন করানো হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাসেল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুমন তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত না দেওয়ায় তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন। নিখোঁজের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুমনের সন্ধান, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রায়পুরায় গ্রাম পুলিশ নিখোঁজ, চাঁদা ও দখলের অভিযোগে উত্তেজনা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের মাহমুদনগর হিন্দুপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র বিশ্বাস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকেই তিনি আর খোঁজে নেই। স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাসেল মৃধা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে চাপের মধ্যে রেখে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। শুধু সম্পত্তি নয়, ভয়ভীতি ও হুমকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাহমুদনগর হিন্দুপাড়ায় কয়েকটি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পুরনো বিরোধ রয়েছে। একাধিকবার সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

 

নিখোঁজ সুমনের স্ত্রী স্বপ্নারাণী বিশ্বাস জানান, কয়েক মাস ধরে তার স্বামীকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য। “গত বৃহস্পতিবার রাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই আমার স্বামী নিখোঁজ,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও পরিবারের সদস্যদের জোর করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে দলিল সম্পাদন করানো হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাসেল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুমন তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত না দেওয়ায় তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন। নিখোঁজের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুমনের সন্ধান, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।