প্রধান নির্বাচন কমিশনার
সেপ্টেম্বরে তপশিল, নভেম্বরে স্থানীয় সরকার ভোট শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 22
সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
সিইসি বলেন, দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৫০০ উপজেলা এবং সাড়ে চার হাজারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সামনে রয়েছে। এসব নির্বাচন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যে মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও তার চেয়ে ভালোভাবে করার চেষ্টা থাকবে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে নানা বিষয় বিবেচনা করতে হয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, বন্যা, বর্ষাকাল, দুর্গাপূজা, ঈদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্কুল-কলেজগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, “আশা করছি, হয়তো আমরা সেপ্টেম্বরে সিডিউলটা ঘোষণা করতে পারব।” নভেম্বরে নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরু হওয়ায় তখন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে না। এরপর ঈদুল আজহা ও বর্ষাকাল থাকায় নির্বাচন আয়োজনের সময়ও সীমিত হয়ে যাবে। তাই বছরের শেষ নাগাদ ভোট আয়োজন করতে হলে সেপ্টেম্বরে তপশিল ঘোষণার প্রয়োজন রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ২০২১ সালে প্রথম ধাপে যে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছিল, সেগুলোকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের নির্বাচনও অনুকূল মৌসুমে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি, সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিইসি। আইনের সংশোধনী খসড়া প্রক্রিয়া শেষে সংসদে পাস হওয়ার প্রয়োজন হবে।
এদিকে ভোট আয়োজনের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এএমএম নাসির উদ্দিন। একই সঙ্গে এনআইডি জালিয়াতি ঠেকাতে কমিশন নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।































