যৌন হয়রানি রোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেনের চুক্তি
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইউএন উইমেনের ‘এন্ডিং সেক্সুয়াল অ্যান্ড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স ইন পাবলিক স্পেস, ওয়ার্কপ্লেস অ্যান্ড টারশিয়ারি এডুকেশনাল সেটিংস ইন বাংলাদেশ (ইএসজিবিভি)’ প্রকল্পের আওতায় এ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।
এই সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ন্যাশনাল ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন প্রিভ্যালেন্স সার্ভে ২০২৪’-এর তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের ১৬ শতাংশ গত এক বছরে প্রযুক্তি-সুবিধাভিত্তিক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
সমঝোতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির নির্বাহী কমিটির সদস্য, পাঁচটি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রতিনিধিরা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএন উইমেনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ভয়, হয়রানি ও বৈষম্যের পরিবেশে প্রকৃত শিক্ষা ও উৎকর্ষ অর্জন সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, যেখানে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা সহিংসতার আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে ও মেধার প্রকাশ ঘটাতে পারেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন ও পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, এই চুক্তি নীতি ও প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার নিশ্চয়তা দিতে সহায়ক হবে।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য ও প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শ্রবণা দত্ত।
প্রকল্পের আওতায় ইউএন উইমেন ও তাদের অংশীদার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এর মধ্যে অভিযোগ কমিটি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অভিযোগ গ্রহণ ও রেফারেল ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে শিক্ষা, কাজ ও ক্যাম্পাস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।





























