জমি বিরোধের জের
নালিতাবাড়ীতে এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িতে লুট
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 93
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেনের দাবি, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নারীসহ পাঁচজন আহত হন। এর দুই দিন পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, তালুকপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৬০) ও সোহেল (৩৫) সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে সোহেলের ছোট ভাই জিয়ার মিয়া (৩০) বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে আইল বাঁধার কাজ শুরু করেন। এ সময় আনোয়ারের পক্ষের লোকজন বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জিয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে জিয়ার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় কুপিয়ে ও পিটিয়ে নারীসহ পাঁচজনকে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন; জিয়ার মিয়া (৩০), রেজাউল (২৫), অন্তর (১৯), টুকুনি (৪০) ও আয়েশা (৩০)।
এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আনোয়ার হোসেনের পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে জানা গেছে। এই সুযোগে শনিবার সকালে একদল লোক আনোয়ারের সেমিপাকা বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ার হোসেনের দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মণ ধান, ৪০ মণ চাল, চারটি সেচ মর্টার, দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, একটি ট্রাক্টর ও ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, আহতরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছিলেন না। তাই স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনোয়ার হোসেনের কিছু মালামাল বিক্রি করে আহতদের চিকিৎসার ব্যয় মেটানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী একটি কমিটি করে চাঁদা তুলে আহতদের চিকিৎসার খরচ সংগ্রহ করছেন।
জমি বিরোধ, হামলা ও বাড়িতে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।






























