স্বজনদের হত্যার অভিযোগ
নালিতাবাড়ীতে গৃহবধূর মৃত্যু: অপমৃত্যুর মামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 42
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মুন্নি আক্তার সাগরিকা (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরিকা হালুয়াঘাট উপজেলার চর গোরকপুর গ্রামের মমতাজ হোসেনের মেয়ে। তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে নালিতাবাড়ীর ফকিরপাড়া গ্রামের নদীরপাড় এলাকার আবু সামার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় এক বছর আগে তারা বিয়ে করেন।
বিয়ের শুরুতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি থাকলেও কয়েক মাস পর সাগরিকার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়। এরপর স্বামীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। পরিবারের দাবি, সেখানে গিয়ে সাগরিকা জানতে পারেন, তার স্বামীর আগে আরও তিনটি বিয়ে হয়েছিল। আগের সংসারগুলো পারিবারিক বিরোধের কারণে টেকেনি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, আবু সামা মাদকাসক্ত ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য সাগরিকাকে চাপ দেওয়া হতো। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। মৃত্যুর আগের দিনও তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে আবু সামা ফোন করে সাগরিকার বাবাকে জানান, তার স্ত্রী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই তার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা সাগরিকার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় না দেখে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহ কেন নামানো হলো। তাদের দাবি, মরদেহ নামানোর বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা মমতাজ হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশকে হত্যার অভিযোগ জানানো হলেও পরে কম্পিউটারে তৈরি একটি অপমৃত্যুর আবেদনে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও ঘটনাটিকে নিছক আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের দাবি, সাগরিকার সংসারে নিয়মিত কলহ চলত এবং এর পেছনে নির্যাতনের বিষয় থাকতে পারে। এ ছাড়া স্বামীর আগের তিনটি বিয়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড; তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই কেন অপমৃত্যুর মামলা করা হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা সাগরিকার মৃত্যুর আগে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী মামলা করা হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফ জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সাগরিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ; আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি হত্যাকাণ্ড; তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





























