এক মাসের ব্যবধানে ফের পানির নিচে চট্টগ্রাম
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
টানা ভারী বৃষ্টিতে এক মাসের ব্যবধানে আবারও জলাবদ্ধতায় ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, ফরিদারপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া ও জামালখানসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। কোথাও পানি উঠেছে কোমরসমান পর্যন্ত।
রোববার (১৬ আগস্ট) থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও রাতের দিকে তা আরও তীব্র হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নগরজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। অফিস-আদালত ও কর্মস্থলমুখী মানুষকে পানির মধ্যেই চলাচল করতে হয়েছে। অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে ঘর থেকেও বের হতে পারেননি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
নগরের কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় সকালে প্রায় কোমরসমান পানি দেখা যায়। বিভিন্ন ভবনের নিচতলা ও গাড়ি রাখার স্থানেও পানি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, ভবনের নিচতলায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। বাইরে কোমরসমান পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয় এক কলেজশিক্ষক বলেন, বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সড়কে পানি থাকায় তিনি কলেজে যেতে পারেননি, তার সন্তানও স্কুলে যেতে পারেনি।
জলাবদ্ধতার কারণে বেড়ে গেছে গণপরিবহন ও রিকশাভাড়াও। কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ন জানান, স্বাভাবিক সময়ে ফরিদারপাড়া থেকে বহদ্দারহাট যেতে রিকশাভাড়া ২০ টাকা হলেও পানি জমে যাওয়ায় সোমবার ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলোর বড় একটি অংশের কাজ শেষ হলেও ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, হিজড়া খালের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টি থেমে গেলেও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে।
এ অবস্থায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন নগরবাসীকে বারবার একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকালে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানির চাপ থাকায় নগরের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছেন। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।





























