ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকব: রাষ্ট্রপতি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 22

রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং দেশের কল্যাণে তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাবো।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কারও প্রতি তার রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকেই নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং আনুগত্য থাকতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান তিনি। সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা জনগণের অর্থে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে এসব সম্পদের স্বচ্ছ, সঠিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশের পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতির অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং একটি পরিবারের সদস্যের মতো। সুযোগ পেলেই পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দলনিরপেক্ষ থাকব: রাষ্ট্রপতি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং দেশের কল্যাণে তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাবো।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কারও প্রতি তার রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকেই নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং আনুগত্য থাকতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান তিনি। সরকারি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা জনগণের অর্থে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে এসব সম্পদের স্বচ্ছ, সঠিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশের পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতির অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাই একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং একটি পরিবারের সদস্যের মতো। সুযোগ পেলেই পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।