আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 110
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (কুমিল্লা-৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোতেও পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরে সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধের বিচার করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো অপরাধের তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে; এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় বাহিনী ব্যর্থ হলে সেটি উল্লেখ করা হলে সরকার ওই বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে পারবে।
সংসদে উপস্থাপিত অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের সময় এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিও উল্লেখ করা উচিত। এর আগে সরকার বিভিন্ন অপরাধের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংসদে উপস্থাপন করেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ জন্য বর্তমানে পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তবে পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নৈতিকতা, শারীরিক সক্ষমতা ও একাডেমিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমকেও জানানো হচ্ছে।
কারাগারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগের তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। তদন্তে বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদে নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জেলার প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনে আবেদনকারীরা ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন। কেউ কেউ ছোট জমি কিনে সেটিকে স্থায়ী বা গ্রামের ঠিকানা দেখিয়ে নিয়োগের আবেদন করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এর ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।




























