ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদী বড় বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 70

নরসিংদী বড় বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বিপজ্জনক আতশবাজি। বাজারের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকানে টেবিল পেতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাজি। প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর-কষাকষির মাধ্যমে চলছে এসব পণ্যের বেচাকেনা।

বাজির বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা।

শরিফ ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ বলেন, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কিছুক্ষণ পরপর বাজির বিকট শব্দে তাঁর বুক কেঁপে ওঠে। হঠাৎ এমন শব্দ হলে বুক ধড়ফড় করে এবং বুকে ব্যথা শুরু হয়। বয়স ও অসুস্থতার কারণে এ পরিস্থিতি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। উৎসবের আনন্দ করতে গিয়ে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ শব্দের বাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাজারে প্রকাশ্যে বাজি বিক্রি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আফাজ উদ্দিন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে বড় বাজারে সারি সারি দোকান বসিয়ে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। শব্দবাজি হৃদ্‌রোগী ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নরসিংদীর সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, হাজারো মানুষের সমাগমস্থল বড় বাজারে দাহ্য ও বিস্ফোরকজাতীয় বাজি খোলামেলাভাবে বিক্রি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বৈধ ও অবৈধ পণ্য যাচাই করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

হলধর দাস আরও বলেন, লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে ফটকা বাজির আড়ালে অপরাধী চক্রের অপতৎপরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শব্দদূষণের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জনস্বার্থে নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, জনস্বার্থে বাজি ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও কেউ এসব পণ্য বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বক্তব্য জানতে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নরসিংদী বড় বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বিপজ্জনক আতশবাজি। বাজারের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকানে টেবিল পেতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাজি। প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর-কষাকষির মাধ্যমে চলছে এসব পণ্যের বেচাকেনা।

বাজির বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা।

শরিফ ইসলাম নামে এক বৃদ্ধ বলেন, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কিছুক্ষণ পরপর বাজির বিকট শব্দে তাঁর বুক কেঁপে ওঠে। হঠাৎ এমন শব্দ হলে বুক ধড়ফড় করে এবং বুকে ব্যথা শুরু হয়। বয়স ও অসুস্থতার কারণে এ পরিস্থিতি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। উৎসবের আনন্দ করতে গিয়ে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ শব্দের বাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বাজারে প্রকাশ্যে বাজি বিক্রি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আফাজ উদ্দিন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে বড় বাজারে সারি সারি দোকান বসিয়ে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। শব্দবাজি হৃদ্‌রোগী ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নরসিংদীর সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, হাজারো মানুষের সমাগমস্থল বড় বাজারে দাহ্য ও বিস্ফোরকজাতীয় বাজি খোলামেলাভাবে বিক্রি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বৈধ ও অবৈধ পণ্য যাচাই করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

হলধর দাস আরও বলেন, লক্ষ্মীপূজাকে কেন্দ্র করে ফটকা বাজির আড়ালে অপরাধী চক্রের অপতৎপরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শব্দদূষণের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জনস্বার্থে নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, জনস্বার্থে বাজি ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও কেউ এসব পণ্য বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বক্তব্য জানতে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।