ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 31

প্রতীকী

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ ও কাঠামোগত দিক পর্যালোচনা করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত কমিটি সেখানে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে।

সূত্র বলছে, নবম পে স্কেল দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রজ্ঞাপন ও বিধিমালা সংশোধনের মতো কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি থাকায় বর্ধিত বেতন পেতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই অর্থ বিভাগ প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, পুলিশ, স্বাস্থ্য, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এখন তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় বর্তমান বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) বাতিল হয়ে তা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে গ্রেডভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোতে এটি আলাদা করে থাকবে না। এতে মোট বেতন বৃদ্ধির হার কার্যত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন বৃদ্ধি হলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরকালীন অন্যান্য সুবিধাও তুলনামূলকভাবে বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়। বড় অংশের এই অর্থ ভবিষ্যতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি অংশ থোক বাজেট হিসেবে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নবম পে স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ ও কাঠামোগত দিক পর্যালোচনা করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত কমিটি সেখানে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে।

সূত্র বলছে, নবম পে স্কেল দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সরকার ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রজ্ঞাপন ও বিধিমালা সংশোধনের মতো কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বাকি থাকায় বর্ধিত বেতন পেতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই অর্থ বিভাগ প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, পুলিশ, স্বাস্থ্য, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এখন তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় বর্তমান বিশেষ সুবিধা (ইনসেনটিভ) বাতিল হয়ে তা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে গ্রেডভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোতে এটি আলাদা করে থাকবে না। এতে মোট বেতন বৃদ্ধির হার কার্যত কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন বৃদ্ধি হলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরকালীন অন্যান্য সুবিধাও তুলনামূলকভাবে বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়। বড় অংশের এই অর্থ ভবিষ্যতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি অংশ থোক বাজেট হিসেবে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।