নরসিংদীতে আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষে নিহত ৩
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 8
নরসিংদীর রায়পুরায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। মেঘনা নদী থেকে আরও এক টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুই গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও ভয়াবহ রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার কাছাকাছি মেঘনা নদী থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি টেটাবিদ্ধ অবস্থায় ছিল।
নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার মিয়া (৩৫)। তিনি নিলক্ষা ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহ আলম মিয়ার ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং স্রোতের টানে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে আসে মরদেহটি।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্তের পর আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রায়পুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটির মামলা রায়পুরা থানায়, পরবর্তী তদন্তও সেখান থেকেই পরিচালিত হবে।
এর আগে মঙ্গলবার একই ইউনিয়নে সংঘর্ষের পর বুলবুল মিয়া ও অনিক মিয়ার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি–জবা মিয়া গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
মঙ্গলবার ভোরে এক পক্ষ স্পিডবোটে করে এলাকায় প্রবেশ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।
এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একই বিরোধের জেরে আগেও প্রাণহানি ঘটেছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে সংঘর্ষে একজন কুয়েতপ্রবাসীর মৃত্যু হয়, তখনও এলাকায় মামলা ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।


































