শিক্ষায় পরিবর্তনে যেসব কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:১০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 11
মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল, দক্ষ ও পরিবেশ-সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ প্রদর্শনীর পাশাপাশি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। আগামী ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ দুটি কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দময়, কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক করতে একাধিক বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ মহোৎসব।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটানো। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০০টি দল আগামী ২৭ জুন ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয়ীদের পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ও সনদপত্রেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পাঁচ কোটি দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৮ জুন দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনের দিন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো হবে। আম, জাম, কাঁঠাল, নিম ও অর্জুনসহ দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার এই যুগপৎ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।































