পে-স্কেলের প্রথম ধাপে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন যারা
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 46
আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সহায়তা করার লক্ষ্যে এই দূরদর্শী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মন্ত্রিসভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়বে। বিপরীতে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডভুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এই প্রথম বছরে কিছুটা কম হারে বৃদ্ধি পাবে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত না থাকলেও বিবিধ আলোচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশলটি উঠে আসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিসভার একজন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী মোট তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পারিবারিক ব্যয়ের ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম বছরটিতেই স্বল্প আয়ের কর্মীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ, বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা নেই। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেশি বেতনের কর্মকর্তাদের প্রথম ধাপে কম এবং কম বেতনের কর্মচারীদের বেশি হারে সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য বণ্টন:
প্রাথমিকভাবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে বর্তমান কাঠামোর তুলনায় নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন যতটুকু বাড়বে, তার ৫০ শতাংশ করে পরপর দুই অর্থবছরে দেওয়া হবে এবং শেষ অর্থবছরে ভাতার বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান পরিকল্পনায় সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসছে।
১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা):
কর্মকর্তাদের মূল বেতন যতটুকু বাড়ানো হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেওয়া হতে পারে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (কর্মচারী):
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের মূল বেতন যতটুকু বাড়বে, তার ৬০ শতাংশই প্রথম অর্থবছরে দেওয়া হতে পারে。 তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
পটভূমি ও ব্যয়ের হিসাব:
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ গঠন করা হয়েছিল। গত ২১ জানুয়ারি এই কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে পদভেদে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদাভাবে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-২০২৫’-এর মাধ্যমে পৃথক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, যা আগামী মাসে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এজেন্ডাভুক্ত করে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
জনপ্রশাসনের বর্তমান চিত্র:
বর্তমানে দেশের জনপ্রশাসনে মোট ২০টি গ্রেডে কর্মচারীরা কর্মরত আছেন, যার মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ পান এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অন্যান্য শ্রেণির কর্মচারীরা কাজ করেন। গত ২ এপ্রিল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জাতীয় সংসদে সর্বশেষ যে পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। বাকি ১২ লাখ ৬০ rust১১৮ জনই ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী, যার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ জন এবং অন্যান্য শ্রেণিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত। ফলে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনার কারণে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ৮৭ শতাংশ বড় অংশই প্রথম বছরে সরাসরি বেশি উপকৃত হবেন।
































