লেবানন থেকে ইসরায়েল না সরলে আলোচনা বন্ধ: ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 8
দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহার না করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী মহল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’-এর ১ নং অনুচ্ছেদ যদি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেওয়া একেবারেই নিরর্থক। উল্লেখ্য, ওই চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি সইয়ের পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি সইয়ের পর ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে গত রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার ‘টেকনিক্যাল’ বৈঠক শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই ইরান নিজেদের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা-কে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং রোববারের বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে এটিই হবে মূল আলোচ্য বিষয়।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইসরায়েল এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উল্টো সুর চড়িয়ে বলেছেন, লেবাননের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় আইডিএফ স্বাধীনভাবেই সামরিক পদক্ষেপ নেবে। ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী মনোভাবের বিপরীতে তেহরান নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হওয়া এবং বিভিন্ন দেশে ইরানের জব্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা পরবর্তী কোনো শান্তি আলোচনা কিংবা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সংলাপে অংশ নেবে না।



































