দেশভাগ নিয়ে মোদির বিস্ফোরক দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 148
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।
দেশভাগের সময় অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, রক্তপাত, দাঙ্গা ও দেশভাগের ভয়াবহতার মধ্যেও বাংলা তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাজ্য পর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইতিহাস ও সমসাময়িক রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে মোদি পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে বিশেষ কৃতিত্ব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তী সরকারগুলো রাজনৈতিক কারণে এই ঐতিহাসিক অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
দেশভাগের পূর্ববর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে মোদি বলেন, তৎকালীন সময়ে পুরো অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার গভীর চক্রান্ত চলছিল। তার দাবি, সে সময় কংগ্রেস ওই পরিকল্পনার কাছে নতি স্বীকার করেছিল। তবে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং জনমত গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, মুখার্জি ‘বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড’ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। এই আন্দোলনে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ইতিহাসবিদ আর সি মজুমদার ও যদুনাথ সরকার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া শিল্পপতি জিডি বিড়লা ও মতুয়া নেতা পি আর ঠাকুরও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন।
মোদির ভাষ্য, এই জনআন্দোলনের ফলে ভারতবিরোধী শক্তিগুলো বুঝতে পারে যে পুরো বাংলাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। এর ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।
বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ১৯৪৬ সালের কলকাতার সহিংসতা ও নোয়াখালীর দাঙ্গার কথা স্মরণ করেন। মোদি বলেন, ওইসব ঘটনায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এত বড় ট্র্যাজেডির পরও বাংলা তার স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জানা উচিত সেই সময়ের ইতিহাস। তার মতে, ২০ জুন শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।
বক্তব্যে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসেরও সমালোচনা করেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়েছে। দেশভাগের সময় কংগ্রেস বাংলা ত্যাগে প্রস্তুত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে গেছে, ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।
মোদি আরও বলেন, কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ইতিহাস রচনার আহ্বান জানান।


































