সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:২৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 5
সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অস্থায়ী চুক্তিকে এগিয়ে নিতে এই বৈঠক হলেও লেবাননের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি পুরো প্রক্রিয়াকে নতুন অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে রোববার থেকে এই আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি স্থায়ী কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা।
এর আগে গত সপ্তাহে একটি অস্থায়ী কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছেন, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় গভীর হতে পারে।
তবে চুক্তির পরপরই পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধের ঘোষণা আসে—যা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের পথ।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, সমুদ্রপথ এখনো চালু রয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভ্যান্সও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়েছে।
আলোচনার শুরুতে ভ্যান্স বলেন, এটি এমন একটি মুহূর্ত যেখানে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব কি না তা নির্ধারিত হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, দুই পক্ষ চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করা যেতে পারে, না হলে পুরোনো সংঘাতই ফিরে আসবে।
এদিকে একই সময়ে অনলাইন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহকে সমর্থন বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি ইরানকে তাদের “প্রক্সি বাহিনী” নিয়ন্ত্রণে আনারও আহ্বান জানান।
আলোচনার ফাঁকে ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দল আলাদাভাবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালায়। কাতারের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। ২০১৫ সালের ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি পর্যবেক্ষণেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, যা পরে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে প্রত্যাহার করে নেয়।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনায় তাদের প্রধান অগ্রাধিকার লেবাননের যুদ্ধবিরতি। তারা বলছে, চুক্তি বাস্তবায়নের আগে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখার কথা বলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন জাহাজ চলাচলে কোনো ফি থাকবে না, যদিও ভবিষ্যতে ফি আরোপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। একই সময়ে ফ্রিজ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ের পথও খুলে যেতে পারে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, চুক্তি কার্যকর হওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা রয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের একাংশ এটিকে পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তির মতো দুর্বল বলেও অভিহিত করছে।
এদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা এই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।




































