ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 7

প্রতীকী ছবি : বাংলা অ্যাফেয়ার্স

বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে বাস্তবায়নযোগ্য ঘোষণা করে এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদের রোববার (২১ জুন) অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য খাত, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পদ্মা ব্যারেজকে নতুন কোনো ধারণা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান অনুসন্ধান করা হয়। পরে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি ও রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দীর্ঘ সমীক্ষা শেষে ২০১৩ সালে তা সম্পন্ন হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই করে এবং উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ (২০১১–২০২৫) ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পাওয়া গেছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে চর গঠনের কারণে সেখানে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে পদ্মা নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাস্তবায়ন পর্যায়ে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এ কারণে নকশা হালনাগাদ ও অভিযোজনের জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটির জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলও গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে বাস্তবায়নযোগ্য ঘোষণা করে এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদের রোববার (২১ জুন) অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য খাত, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পদ্মা ব্যারেজকে নতুন কোনো ধারণা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান অনুসন্ধান করা হয়। পরে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি ও রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দীর্ঘ সমীক্ষা শেষে ২০১৩ সালে তা সম্পন্ন হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই করে এবং উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ (২০১১–২০২৫) ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পাওয়া গেছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে চর গঠনের কারণে সেখানে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে পদ্মা নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় বাস্তবায়ন পর্যায়ে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এ কারণে নকশা হালনাগাদ ও অভিযোজনের জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটির জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলও গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।