বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সাথে যুক্ত করতে ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’ (Bridge to Bangladesh) নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করল অক্সফাম। —এর মধ্যে রয়েছে একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ।
রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অক্সফাম ‘bridgetobd.org’ নামের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি চালু করে। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রবাসী নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
‘অক্সফাম ইন বাংলাদেশ’-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত ২৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি যাচাইকৃত দেশীয় সংস্থা ও ব্যক্তির সহায়তায় জ্ঞান, পরামর্শ (মেন্টরশিপ), দক্ষতা, অ্যাডভোকেসি, উদ্ভাবন, জনহিতকর কার্যক্রম, বিনিয়োগ সংযোগ এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহী । এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও টেকসই সম্পৃক্ততা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, সরকারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রবাসী নীতি প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে । শীঘ্রই এটি অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রবাসীদের সাথে আরও জোরালো সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসছেন। কিন্তু আস্থার ঘাটতির কারণে তাঁরা এখানে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। পাশাপাশি, তাঁরা যথাযথ সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন না । সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বা সেবাও পাচ্ছেন না। তাই স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিধি-নিষেধ শিথিল করা এবং সরকারি সেবার সংস্কার করা অপরিহার্য।”
তিনি আইনি ও নীতিমালার সংস্কার, অধিকতর স্বচ্ছতা এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে উন্নত সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, এই উদ্যোগটি প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতে প্রবাসী নীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, “একবার কার্যকর সংযোগ স্থাপিত হলে তা বৈপ্লবিক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে।” ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন বাংলাদেশ’-এর চেয়ার ও এমপি আফসানা বেগম বলেন, জাতীয় সংকট, মানবিক জরুরি পরিস্থিতি এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বাংলাদেশি প্রবাসীরা সবসময়ই দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও অন্যান্য প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি কার্যকর পথ তৈরি করে দেবে। ব্রিটিশ এমপি বলেন, “যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী ও বেড়ে ওঠা ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা—আমার মতোই—বাংলাদেশের উন্নয়ন ও নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে আগ্রহী। তাই আমি বিশ্বাস করি ও আশা রাখি, চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’ (Bridge to Bangladesh) সেই পথটিই তৈরি করে দিতে পারবে।”
স্বাগত বক্তব্য দেন অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিস দামলে । এই উদ্যোগকে কেবল অক্সফামের কোনো প্রকল্প হিসেবে না দেখে বরং একটি সম্মিলিত জাতীয় ভিশন বা লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করে আশিস দামলে বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটির এমন সক্ষমতা রয়েছে যা বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ, সহায়তা-প্রত্যাশী একটি দেশ থেকে এমন একটি দেশে রূপান্তর, যারা বিশ্বকে জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবন দিয়ে সমৃদ্ধ করছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর চিফ অফ মিশন ড. লরা টম-বন্ডে; ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং ডিসিসিআই (DCCI)-এর সাবেক সভাপতি সবুর খান; বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনিয়ন এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির।
অনুষ্ঠানটিতে অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ‘ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া’ বিভাগের প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম তাঁর উপস্থাপনা এই প্ল্যাটফর্মটির ধারণা থেকে শুরু করে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর্যায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার বিবরণ দেন।
শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ডিজাইনের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিল শফিক গবেষণালব্ধ বিভিন্ন তথ্য ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেন, যার ওপর ভিত্তি করে প্ল্যাটফর্মটির নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘ইকোনমিক ইনক্লুশন অ্যান্ড জাস্টিস’ বিভাগের প্রধান ফাতেমা তুজ জোহরা।