সুপ্রিম কোর্ট প্রকল্পে দুর্নীতি, আট ঠিকাদার ব্ল্যাকলিস্ট
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 32
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ কেলেঙ্কারিতে তদন্তের পর এবার দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্পে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন, অনুমোদন ছাড়া একটি কাজকে আটটি প্যাকেজে ভাগ করা এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করেছে গণপূর্ত অধিদফতর।
এর আগে একই ঘটনায় ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি বিধি লঙ্ঘন এবং প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
গত ১২ জুলাই গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর)-২০০৮-এর বিধি ১২৭ অনুযায়ী অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী দুই বছরের জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের সব ধরনের দরপত্র ও ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূল ডব্লিউ-১ (সিভিল ওয়ার্কস) প্যাকেজটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) কিংবা প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই আটটি পৃথক প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়। এরপর ই-জিপির মাধ্যমে পৃথক দরপত্র আহ্বান করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিল প্রস্তুত ও পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু তদন্ত কমিটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পায়, যেসব কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেসব কাজের বাস্তব কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড বা এনডিএ। কিন্তু সেই কাজের বাইরে আরও আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুই বছরের জন্য কালোতালিকাভুক্ত হয়েছে- মেসার্স কামরুল এন্টারপ্রাইজ, মিম্পা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আর এস এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স গোমতী এন্টারপ্রাইজ, রাশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স স্বদেশ ডেভেলপমেন্ট, গ্রাম বাংলা ও কর্ণফুলী কনস্ট্রাকশন।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বরখাস্ত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হলেও এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত হবে কি না। কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, বিধি লঙ্ঘন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।





































