পাহাড়ি ঢলে ফুলে উঠল কাপ্তাই, খুলল ১৬ গেট
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 19
টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নেমে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রতিটি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উজান থেকে অব্যাহত পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বিপৎসীমায় পৌঁছানোর আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ০৮ এমএসএল, যেখানে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। তাই আগাম ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজানের ইনফ্লো এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী গেট আরও বেশি খুলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হবে।
এদিকে, শুধু স্পিলওয়ে দিয়েই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও হ্রদ থেকে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়া হচ্ছে। বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
হঠাৎ করে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা, জেলে, নৌযান চালক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত কাপ্তাই বাঁধের কাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে। ১৬টি জলকপাটসংবলিত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ স্পিলওয়ে দিয়ে প্রয়োজন হলে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে কাপ্তাই এখনো জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।




































