আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 18
আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় সাইবার সক্ষমতা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সময়োপযোগী ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং আধুনিক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কার্যকারিতা এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা।
সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে। শুধু সীমান্ত রক্ষাই নয়, সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা এবং শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন নিশ্চিত হলে বাহিনীতে পেশাদার নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে এমন একটি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য যুদ্ধ নয়, বরং সম্ভাব্য সংকট, আগ্রাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বক্তব্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা রক্ষা, সীমান্ত এলাকায় বর্ডার রোড নির্মাণ, মাইন অপসারণ কার্যক্রম এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্যের প্রশংসা করেন। দক্ষিণ সুদানে ২০২৫ সালের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, জাতীয় নির্বাচন, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় সংকটগুলোতে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন কারণে সেনাবাহিনীকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাহিনীকে আরও বেশি পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। ফিটনেস ও নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীতে এ দুটি বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরব, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করবেন।


































