টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেল গ্রামীণ সড়ক, দুর্ভোগে চরফ্যাশনের মানুষ
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 29
টানা বর্ষণে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদ্য নির্মিত কাঁচা রাস্তা ও মাটির বাঁধ ধসে পড়েছে, ইটের সোলিং দেবে গেছে এবং খোয়া বিছানো সড়ক কাদা-পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়। তবে টানা বর্ষণে এর মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কাঁচা সড়কে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে পাকা সড়কের পিচ উঠে কাদা-পানির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
দুলারহাট থানার আদর্শ কলেজ থেকে নীলকমল ইউনিয়নের চর যমুনা এলাকার ৫, ৪ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড হয়ে হেজু মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
বাসিন্দারা জানান, সদ্য সংস্কার করা অধিকাংশ কাঁচা সড়ক টানা বৃষ্টিতে আবারও ভেঙে পড়েছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও কর্মজীবীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। অটোরিকশা ও ভ্যান দুর্ঘটনাও প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
অটোরিকশা চালকদের ভাষ্য, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। খারাপ রাস্তার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে, ফলে বাড়ছে মেরামত ব্যয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। তিনি জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অধীন গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বেশ কয়েকটি মাটির ও ইটের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত মাটি ভরাট ও ইটের সোলিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করে সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



































