দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে আসিফের আইনি নোটিশ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 96
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে গণমাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ আইনি নোটিশ পাঠান। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে; জনমনে এমন ধারণা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যটি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে জানান। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।
এ কারণে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও জনমনে তৈরি নেতিবাচক ধারণা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র।
আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে বলে পোস্টে জানানো হয়। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়। পোস্টে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় আইনি নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।





























