একরাম হত্যা বদির পরিকল্পনায়: চিফ প্রসিকিউটর
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 39
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। মামলার শুনানি শেষে আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আটক তিনজনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একরাম হত্যাকাণ্ডের পেছনে আবদুর রহমান বদির পরিকল্পিত ভূমিকা ছিল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, একরাম ছিলেন বদির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তার অভিযোগ, একরামকে হত্যার পর বিভিন্ন কৌশলে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয় এবং ঘটনার নেপথ্যে বদি মূল ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের মতের বাইরে গেলে অনেককে টার্গেট করা হতো। একরাম হত্যার ঘটনায় মোবাইল ফোনের অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যসহ বিভিন্ন আলামত তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’র আওতায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও আবদুর রহমান বদির নাম এসেছে বলে জানান তিনি।
২০১৮ সালের ২৬ মে র্যাবের কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং দীর্ঘদিন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে তার মৃত্যুর সময়ের একটি অডিও প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে একরামের স্ত্রী আয়শা বেগম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় মামলা করেন। পরে অন্য মামলায় আটক থাকা আবদুর রহমান বদিকে এই মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়। আগামী ২৫ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
































