ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় সেরাজনগর পাইলট স্কুলের ৮০ বছর পূর্তির আয়োজন 

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 219

রায়পুরায় সেরাজনগর পাইলট স্কুলের ৮০ বছর পূর্তির আয়োজন 

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের এক্স-স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (এক্সসাস) ভবন প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এক্সসাসের প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এয়ার ভাইস কমোডর ও এক্সসাসের সভাপতি মো. খালেদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এক্সসাসের সেক্রেটারি ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলাইমান মিয়া।

বিদ্যালয়ের ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক্সসাসের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মতিউর রহমান মতি, আরমান হোসেন স্বপন, কাজী আসাদুর রহমান মিলন, ফরিদ উদ্দিন, নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক, সোহরাব হোসেন মাস্টার, আমির হোসেন আমুসহ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফাইজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া আলতাফ, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, রায়পুরা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোকবারক হোসেন কবির, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক, ডা. আওলাদ হোসেন ও নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

রায়পুরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ আট দশকের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের স্মৃতি ধারণ করে আছে। ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনীকে ঘিরে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি রায়পুরার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় করবে।’

বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে।

আয়োজকেরা জানান, ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী স্মরণীয় করে রাখতে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর সাবেক বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্র করার এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান আয়োজকেরা। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনী আয়োজনের প্রস্তুতিও গতি পেয়েছে। আট দশকের স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এ আয়োজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রায়পুরায় সেরাজনগর পাইলট স্কুলের ৮০ বছর পূর্তির আয়োজন 

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের এক্স-স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (এক্সসাস) ভবন প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এক্সসাসের প্রধান উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এয়ার ভাইস কমোডর ও এক্সসাসের সভাপতি মো. খালেদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এক্সসাসের সেক্রেটারি ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোলাইমান মিয়া।

বিদ্যালয়ের ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে এক্সসাসের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মতিউর রহমান মতি, আরমান হোসেন স্বপন, কাজী আসাদুর রহমান মিলন, ফরিদ উদ্দিন, নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন, নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক, সোহরাব হোসেন মাস্টার, আমির হোসেন আমুসহ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফাইজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া আলতাফ, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন, রায়পুরা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোকবারক হোসেন কবির, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক, ডা. আওলাদ হোসেন ও নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

রায়পুরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ আট দশকের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের স্মৃতি ধারণ করে আছে। ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনীকে ঘিরে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘সেরাজনগর মুনছর আলী পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি রায়পুরার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।’

তিনি বলেন, ‘৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় করবে।’

বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে।

আয়োজকেরা জানান, ৮০ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী স্মরণীয় করে রাখতে সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর সাবেক বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের একত্র করার এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান আয়োজকেরা। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনী আয়োজনের প্রস্তুতিও গতি পেয়েছে। আট দশকের স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এ আয়োজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।