অপ্রতিম হত্যায় ‘ কিশোর গ্যাং লিডার’ তুহিন?
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লেখক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক তিনজনের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (২০)। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার আগে সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। এরপর শনিবার দুপুরে তুহিনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই করে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর-সানন্দা এলাকার নুরে আলমের ছেলে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় তুহিনের প্রভাব রয়েছে। মোটরসাইকেল চুরি, টাকা ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন ও ফাহিম পৃথক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমেরও চলাফেরা ছিল। তুহিনের সঙ্গে নীরব নামে আরও একজন ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন বলেও জানান স্থানীয়রা। তাদের দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেলে ঘুরতে দেখা যেত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে ক্রেতারা টাকা নিয়ে এলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রায় এক বছর আগে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করা হয়েছিল। পরে সেটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোটবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ পরে তাদের ছেড়ে দেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তুহিনের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তুহিনের পরিবারের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন তুহিনকে এলাকায় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তার এই প্রভাবের উৎস সম্পর্কে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বিভিন্ন ঘটনায় অভিযোগ উঠলেও তুহিন পার পেয়ে যেতেন; এমন দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের ভাষ্য, এ কারণে এলাকার অনেক কিশোর তার সঙ্গে চলাফেরা করত।
তুহিনের বাবা নুরে আলম দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তুহিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন; এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এ বিষয়ে পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার সানন্দা পাহাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে রাতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে।
অপ্রতিমের মরদেহ যে সানন্দা পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি তুহিনের বাবা নুরে আলমের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সেখানে তাদের একটি ঘরও রয়েছে বলে জানান তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপ্রতিমকে ওই এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল তুহিন। স্থানীয়রা জানান, সানন্দা পাহাড়ি এলাকাটি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এবং অপ্রতিমের বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে।































