যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে চুক্তি মানবে না ইরানও
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 15
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে তারাও আর নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে থাকবে না।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মেনে চলার বিষয়টি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের আচরণের ওপর।
সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেলে ইরানও আগের অবস্থানে থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘‘অন্য পক্ষ যখনই তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, আমরা আমাদের দায়িত্বও একইভাবে পুনর্বিবেচনা করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এভাবেই এগোব।’’
তবে উত্তেজনা কমাতে কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বাঘাই জানান, সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে মধ্যস্থতাকারীরা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
ওমানের কয়েকটি রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ‘শত্রুতাপূর্ণ উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু’ শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, ইরান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে।
সোমবার বাহরাইনে দুই দফা সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় সেই উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


































